অবহেলিত, উপেক্ষিত মৌমিতা জানেন না, আর কতদিন বাংলার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন

শুধু নিজের বাংলাকে ভালবাসেন বলে, অন্তরের টানের জন্যই বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যের হয়ে নামতে পারছেন না। তবে তিনি জানেন না, এত উপেক্ষা, এত অবিচার সহ্য করে আর কতদিন বাংলার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। কথাগুলো বলার সময় অ্যথলিট মৌমিতা মন্ডলকে প্রচণ্ড অভিমানী মনে হল।
তাঁর সাফল্য? ধারে কাছে অনেকেই নেই। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন গেমসে বাংলাকে ৩১টি পদক এনে দিয়েছেন। তাঁর ইন্ডিয়া র্যঙ্কিং দুই। তবু বাংলা তাঁর দিকে ফিরে তাকায়নি, আক্ষেপ মৌমিতার।
হুগলির জিরাটের মেয়ে অনেক দিনই ভিন রাজ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগে ছিলেন ভুবনেশ্বরে। এখন মুম্বইয়ে। কেন, বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে ট্রেনিং কেন? প্রচণ্ড হতাশার সঙ্গে মৌমিতা জানান, “কী করব, বাংলায় যে কোনও সুযোগ সুবিধাই পাই না।“ গোটা বছরে হয়ত মাত্র সপ্তাহ খানেক বাড়িতে থাকার, বংলায় আসার সুযোগ পান। তবু যখন কোনও প্রতিযোগিতায় নামেন, তখন বাংলারই প্রতিনিধিত্ব করেন।

রাখঢাক না করেই মৌমিতা সরব, “বাংলাকে এত পদক দিলাম, অথচ কিছুই যে পাই না বাংলা থেকে! প্রাপ্য টাকাও পাই না। পদক জেতার পর অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সরকারের থেকে প্রাপ্য কোনও টাকা পাইনি। যখন দেখি অন্য রাজ্যে পদক জেতার জন্য এক লাখ টাকা বা ৭০-৮০ হাজার টাকা পাচ্ছে তখন তো খারাপ লাগেই!”
মৌমিতা আক্ষেপ করছিলেন, ছোট খেলায় তো বেশি অর্থ নেই! সেখানেও যদি বঞ্চিত হতে হয়, কার আর ভাল লাগে! বঞ্চনা, উপেক্ষা সত্ত্বেও এখনও বাংলাকে ছাড়েননি, তবে অভিমানী মৌমিতার কথায়, “প্রত্যেকটা প্রতিযোগিতার আগে মনে হয়, কী হবে বাংলার হয়ে নেমে? জানি না কতদিন থাকতে পারব। জানি না কবে বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যের হয়ে নামতে হবে!”
